তিল তিল করে নিজের অর্জিত জমানো টাকা ও এনজিও থেকে লোন করে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের ছোট্ট খামার। পরিকল্পনা ছিল গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাবেন। কিন্তু এক রাতেই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কয়ারগাছি গ্রামে ট্রাক নিয়ে এসে খামারির গোয়ালঘর থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি তারিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মহারাজপুর ইউনিয়নের কয়ারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারিকুল ইসলাম ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মিঞা জানান, রাতে চোরেরা তারিকুলের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ছয়টি গরু নিয়ে যায়। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। এর আগে কানুহরপুর ও বিষয়খালী গ্রামেও একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত গ্রামবাসী এখন রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। কানুহরপুর গ্রামে বেতনভুক্ত নৈশপ্রহরীও নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী বসির উদ্দীন জানান, দিনের পর দিন পরিশ্রম করে গরুর খামারটি গড়ে তুলেছিলেন তারিকুল।
খামারকে ঘিরেই পরিবারের সচ্ছলতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ব্যাংক ও মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাও ছিল। এক রাতের চুরিতে তার সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
খামারি তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও গোয়ালঘরে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান তিনি। ভোরে উঠে দেখেন গোয়ালঘরের তালা ভাঙা, ভেতরে কোনো গরু নেই। তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এই খামার। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, কীভাবে পরিবার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
এলাকাবাসী সাজেদুর রহমান বলেন, গত কিছুদিন ধরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার কিংবা চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বুধবার জানান, একাধিক আন্তঃজেলা চোরচক্রকে গ্রেপ্তারের পর বেশ কিছুদিন জেলায় গরু চুরি বন্ধ ছিল। তবে আবারও চুরির ঘটনা বেড়েছে। তারিকুলের চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।




