সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি এবং আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সাতক্ষীরার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
মামলার বাদী সাহেব আলী দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। মামলায় তার সাবেক স্ত্রীসহ মোট তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রীর কাছে থাকা দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাহেব আলীকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়। পাঁচ দিন পর আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে গত ২৯ অক্টোবর সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে বাদীর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে তার কাছে পাঁচ লাখ, তিন লাখ এবং পরে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও অর্থ দেওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। এ কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে। দ্বিতীয় আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তৃতীয় আসামি বাদীর সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমী।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।