রংপুরের মিঠাপুকুরের প্রত্যন্ত গ্রামে বসে রিমোটচালিত বিমান তৈরি করেছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। প্রায় এক মাসের চেষ্টায় ৫৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের বিমানটি তৈরি করে আকাশে উড়িয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। তার তৈরি বিমান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
সামিউলের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের রামেশ্বরপাড়া গ্রামে। সে শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই আকাশে বিমান দেখলে তার মনে কৌতূহল জাগত। সেই আগ্রহ থেকে ইউটিউবে বিমান তৈরির ভিডিও দেখা শুরু করে। একপর্যায়ে ভিডিও দেখে নিজেই বিমান তৈরির কাজে হাত দেয়।
সামিউল জানায়, তার তৈরি বিমানটিতে ২২০০ কেভির একটি মোটর ব্যবহার করেছে। বিমানটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে পারে বলে তার দাবি। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে কাজ শুরু করেছিল সে। পরে বাবা ও চাচাদের কাছ থেকেও অর্থ নেয়।
শুরুতে ছেলের এমন কাজে পরিবারের আপত্তি ছিল। সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় নানা কথা শুনতে হলেও দমে যায়নি সামিউল। শেষ পর্যন্ত নিজের তৈরি বিমান আকাশে ওড়াতে পেরে সে আনন্দিত। তবে বিমানটি এখনো কোনো কিছু বহন করতে পারে না।
ভবিষ্যতে মানুষ বহনে সক্ষম জেট বিমান তৈরির স্বপ্ন দেখে সামিউল। বিমান প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করে দেশের বেসামরিক বিমান খাতে কাজ করতে চায় সে। সামিউলের সহপাঠী রবিউল ইসলাম বলেন, সহপাঠীর এই সাফল্যে তাঁরা গর্বিত। অল্প সময়ের মধ্যে বিমান তৈরি করে সামিউল তার মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় দিয়েছে। ভবিষ্যতে সে বিমান তৈরির কাজে যুক্ত হবে বলে আশা করেন তাঁরা।
সামিউলের মা শিরিনা বেগম বলেন, ছেলের তৈরি বিমান উড়তে দেখে তিনি খুব খুশি। সরকার সহযোগিতার হাত বাড়ালে ছেলেটি তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা করেন তিনি।
বাবা আতিয়ার রহমান বলেন, তিনি গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক। তাঁর সন্তান বিমান তৈরি করবে, তা কখনো ভাবেননি। শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, সামিউল শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী। তার তৈরি বিমান উড়তে দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকেও সামিউল নিজের আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় রিমোটচালিত বিমান তৈরি করেছে। বিজ্ঞানমনস্ক শিশু-কিশোরদের এমন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের কাজকে বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ পেলে এসব শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকশিত হতে পারে।
বড় কোনো গবেষণাগার কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ছাড়াই সামিউলের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। তার স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন যথাযথ দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা।