সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন এয়ারলাইনস রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরটিতে হুথিদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন। তার দাবি, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইটও স্থগিত করেছে সংস্থাটি। বাহরাইনের গালফ এয়ার শনিবার পর্যন্ত রিয়াদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনসও আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।
এদিকে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালায়। এর কিছু বিমানবন্দরে আঘাত হানে।
কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।