ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশের জন্য নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি আয়োজন করতে গুনতে হবে লাখ লাখ রুপি। মাঠ ভাড়া ও নিরাপত্তা জামানত দেওয়ার পাশাপাশি নিতে হবে দিল্লি পুলিশের অনুমতি। নতুন এই ব্যবস্থায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর নেতারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লির তিনটি নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে আগাম কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। ভাড়া পরিশোধ করলেই বিক্ষোভের অনুমতি মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
মাঠ ভাড়ায় লাখ লাখ রুপি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এক দিনের বিক্ষোভ আয়োজনের ভাড়া ১ লাখ ২১ হাজার ৮০ রুপি। এর সঙ্গে দিতে হবে ৫৫ হাজার রুপি নিরাপত্তা জামানত। প্রায় ১২ একর আয়তনের মাঠটি যন্তর মন্তর থেকে অন্তত চার কিলোমিটার দূরে।
পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের মাঠে ৩ হাজার বর্গমিটার জায়গা এক দিনের জন্য ভাড়া নিতে খরচ হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার রুপি। নিরাপত্তা জামানত দিতে হবে আরও ৯৫ হাজার রুপি। মাঠটি যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এবং এর মালিক দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
তৃতীয় নির্ধারিত স্থান উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান। প্রায় ৫৭ একর আয়তনের এই মাঠটি যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। এখানে পুরো মাঠ বা আংশিক জায়গা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট ভাড়ার পরিমাণ উল্লেখ নেই।
নির্ধারিত স্থানগুলোতে বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে বুকিং করতে হবে। একই সঙ্গে বিয়ে, সম্মেলন, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক জনসভা ও ধর্মীয় আয়োজনের জন্যও মাঠগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফলে পছন্দের দিনে মাঠ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
আন্দোলনের পরিসর নিয়ে উদ্বেগ
সমালোচকদের আশঙ্কা, উচ্চ ভাড়া, নিরাপত্তা জামানত এবং পুলিশের অনুমতির বাধ্যবাধকতা ছোট রাজনৈতিক দল ও আর্থিকভাবে দুর্বল নাগরিক সংগঠনগুলোর জন্য প্রতিবাদ আয়োজন কঠিন করে তুলবে। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও প্রশাসনিক অনুমতির ওপর নির্ভরতা আন্দোলনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
দিল্লিতে জনসমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিধিনিষেধের ইতিহাসও রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিংহ রাওয়ের সরকারের সময় বোট ক্লাবে জনবিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পর যন্তর মন্তর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদস্থলে পরিণত হয়।
নির্ভয়া ধর্ষণ মামলায় সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ এবং নারী কুস্তিগিরদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন আন্দোলনের সাক্ষী এই স্থান। ২০১১ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আন্না হাজারের অনশনও পরে রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আম আদমি পার্টির উত্থান ঘটে।
নতুন ব্যবস্থার বৈধতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।