পাকিস্তানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। আগের পূর্বাভাসেও একই হার উল্লেখ করেছিল সংস্থাটি। ২০২৫ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের চলতি হিসাবের ঘাটতি চলতি অর্থবছরে জিডিপির ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির বেকারত্বের হার আগের অর্থবছরের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।
জ্বালানি সংকটের চাপে বিশ্ব অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চলতি বছর ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। গত জুলাইয়ে দেওয়া পূর্বাভাসে এ হার ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল। ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের সমান।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা টেনরেইরো সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে টিকে আছে। তবে সেই সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে এবং প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি নিম্নমুখী।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। সরকারি আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের লাভজনকতা নিয়ে নতুন করে সংশয় এবং চরম আবহাওয়াও