ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সম্পর্কের গল্পে রয়েছে প্রেম, বিতর্ক ও রাজকীয় দায়িত্বের নানা অধ্যায়। তবে রাজপ্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে তাদের দৈনন্দিন জীবনেও আছে সাধারণ দম্পতির মতো খুনসুটি ও ছোটখাটো মতবিরোধ। সম্প্রতি বিবিসির একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রে এমনই কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন রানি ক্যামিলা।
ক্যামিলার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী চার্লসের কিছু অভ্যাস কখনো কখনো তার নিরিবিলি সময়েও ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বই পড়ার সময় চার্লস হঠাৎ কোনো বিষয় নিয়ে উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করলে বিরক্ত হন তিনি। মজা করে ক্যামিলা বলেন, এমন আচরণ তার জন্য ভীষণ বিরক্তিকর।
জানালা খোলা রাখা নিয়েও দুজনের মধ্যে প্রায়ই মৃদু তর্ক হয়। সাংবাদিক ও লেখক রবার্ট হার্ডম্যানের Charles III: New King, New Court—The Inside Story বইয়ে এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। বইটির তথ্য অনুযায়ী, চার্লস জানালা খুলে রাখলে ক্যামিলা সেটি বন্ধ করে দেন। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় হাসি-ঠাট্টা।
চার্লসের দৈনন্দিন জীবনেও রয়েছে নানা নির্দিষ্ট নিয়ম। রাজপরিবারের সাবেক কর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দাঁত মাজার সময় ব্রাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পছন্দ করেন তিনি। গোসলের পানির তাপমাত্রা ও বাথটাবে পানির পরিমাণ নিয়েও তার রয়েছে বিশেষ পছন্দ।
প্রিন্সেস ডায়ানার সাবেক ব্যক্তিগত পরিচারক পল বারেল এক প্রামাণ্যচিত্রে চার্লসের গোসলের অভ্যাস সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ছেলে প্রিন্স হ্যারি তার আত্মজীবনী Spare বইয়ে বাবার ব্যতিক্রমী শরীরচর্চার অভ্যাসের কথাও উল্লেখ করেছেন।
রাজা-রানির এসব ব্যক্তিগত অভ্যাস ও খুনসুটি রাজকীয় জীবনের ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। রাজকীয় দায়িত্বের বাইরে তাদের সম্পর্কেও যে হাস্যরস, বিরক্তি ও অভ্যাসগত মতপার্থক্য রয়েছে, এসব ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়।
ক্যাপশন: রাজকীয় দায়িত্বের আড়ালে চার্লস ও ক্যামিলার দৈনন্দিন খুনসুটি।




