ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ১১ নেতার করা আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনের কাগজপত্রে ১৪টি ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় নির্ধারিত দিনে শুনানি হয়নি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের আইনজীবীরা ত্রুটিগুলো সংশোধন করে বুধবার মামলাটি আদালতের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। 
আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগ যেসব ত্রুটি চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ২০০ রুপি কোর্ট ফি কম জমা দেওয়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট অনুলিপি এবং ১১ আবেদনকারীর মধ্যে নয়জনের ওকালতনামা জমা না থাকা। ওকালতনামা জমা না দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়।
 আইনজীবী এস প্রসন্নর মাধ্যমে দায়ের করা এই আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর পরিচালনার সিদ্ধান্তসহ প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের প্রধান অন্তত ১৪টি বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্তের কয়েকটি বিষয়ে অন্য দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
 নির্বাচন কমিশনকে যৌথ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা এবং সর্বজনীন ভোটাধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। এর আগে সোমবার রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। পরে বিরোধী নেতারা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দেন। আবেদনটির শুনানি কবে হবে, তা নির্ভর করছে ত্রুটিগুলো সংশোধন ও আদালতের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির ওপর।