ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় তাকে কড়া পাহারায় বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিদের এক মুখপাত্র। হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।
হামলার জবাবে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংলাপের উদ্যোগ তেহরানের
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারের পক্ষে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুতিদের সঙ্গে রিয়াদের সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এ সংঘাতে ইসরায়েল সরকার লাভবান হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রিয়াদকে শুধু সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।