সৌদি আরবগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অনেকেই নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারছেন না। এতে ভিসার মেয়াদ, চাকরি এবং অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রদত্ত প্রতিবেদনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের কেউ বিকল্প ফ্লাইট খুঁজছেন, কেউ এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
 টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মালেক নামের এক যাত্রী জানান, আগে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁকে বিকল্প রুটে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে তাঁর প্রায় ৮০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। কুমিল্লার চান্দিনার শরীফ সরকার জানান, আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান। অন্যদিকে, প্রথমবার সৌদি আরবে চাকরি করতে যাওয়া নাটোরের আতিকুল ইসলামও দুই দফায় বিমানবন্দরে এসে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট রুট মিলিয়ে ১১৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ১৮ হাজার ৩৬২ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প রুটে দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে পাঠানোর উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, নতুন সময়সূচি ও বিকল্প ব্যবস্থার তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।