যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে চারটি বিষয়ে ভোটারদের অসন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নীতি পুনর্বিবেচনা করা ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে।
৪ নভেম্বর প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে ডেমোক্রেটিক পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ভ্যান্স। তিনি জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার দলটির পাশ থেকে সরে গেছেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জনমত জরিপে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের কাছে ফিরে আসার উপায় জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের মতামতে চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধের অবসান, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনা।
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ব্যর্থতার পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথাও স্বীকার করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধ নিয়ে আগে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের ফলাফল সেই আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করেছে। এ বিষয়ে একজন রক্ষণশীল গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের কূটনৈতিক সমাধানের পরামর্শও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনের পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন। তার স্বীকারোক্তি, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটের মাঠে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হয়েছে। তবে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি।
ভ্যান্সের নির্বাচনী বিশ্লেষণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ভোটের ফলাফল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং পরবর্তী করণীয় পর্যালোচনায় তার আপত্তি নেই।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার আগে ভ্যান্স এই সংঘাতের বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তার আপত্তির কারণে এপ্রিলের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ইসরায়েল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল এবং ভ্যান্সের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতিও মার্কিন ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।




