ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই, একের পর এক গোল আর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে রোমার মাঠে স্মরণীয় এক জয় তুলে নেওয়ার গল্প লিখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ আট মিনিটে তিনবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। বুধবারের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রোমা। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে দলকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলটি ঠেকাতে ব্যর্থ হলে স্বাগতিকদের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে রোমার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোলটি করেন এই ফরাসি তারকা।
২৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতাটিতে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকে পৌঁছানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ৭২-এ নিয়ে যান তিনি। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে রোমা। বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো মোরা বল বাড়িয়ে দিলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে আবার এগিয়ে দেন ডনিয়েল মালেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর আরেকটি গোল যোগ হলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। অফসাইডের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি রিয়াল। ম্যাচের শেষ আট মিনিটে শুরু হয় তাদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এরপর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এন্ড্রিক।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে রোমার রক্ষণভাগের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৯০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন আন্তোনিও রুডিগার। তাঁর গোলে স্তাদিও অলিম্পিকোতে নেমে আসে নীরবতা, আর রিয়াল শিবিরে শুরু হয় উৎসব। ম্যাচটি ছিল রোমার কোচ হোসে মরিনিওর জন্যও আবেগঘন। সাবেক এই কোচের অধীনে দলটি একসময় উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল এবং ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল। ম্যাচের আগে সমর্থকেরা ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানান। এই জয়ের ফলে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট দাঁড়ায় ছয়ে। অন্যদিকে রোমার সংগ্রহ এক পয়েন্ট।