বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি অনলাইন বিদ্বেষের বড় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। রেফারির পক্ষপাত ও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বিদেশিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যেও আক্রান্ত হয়েছেন দলটির খেলোয়াড়েরা। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকের ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৭ হাজার পোস্ট ও মন্তব্য মানবীয় যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। যাচাইয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার কনটেন্ট আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দলভিত্তিক হিসাবে আর্জেন্টিনার পর সবচেয়ে বেশি অনলাইন আক্রমণের শিকার হয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বিদ্বেষের তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্রান্স, এরপর ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ছড়ানো মন্তব্যের মধ্যে রেফারি, ফিফা ও ভিএআরের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। সামগ্রিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের ২০ শতাংশ বর্ণবাদী, ১৪ শতাংশ সহিংসতার হুমকি এবং ১২ শতাংশ বিদেশিবিদ্বেষমূলক।
ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অফিশিয়ালরাও অনলাইন আক্রমণের বড় শিকার হয়েছেন। গুরুতর বিদ্বেষমূলক ঘটনার ৭১ শতাংশ তাদের লক্ষ্য করে ঘটেছে। কারও কারও ব্যক্তিগত তথ্যও অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে, যা ডক্সিং হিসেবে পরিচিত।
ফিফা জানায়, তাদের সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা অর্ধেকের বেশি ব্যক্তি অন্তত একটি বিদ্বেষমূলক বার্তা পেয়েছেন। গুরুতর ও হুমকিমূলক কনটেন্টের সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে তদন্তের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস সামনে রেখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন ফুটবল অঙ্গনে অনলাইন হয়রানি ও বৈষম্যের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।