দীর্ঘ ২৬ বছর পর খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নতুন মুখ এসেছে। ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মিনহাজুর রহমান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অবসান ঘটে।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মো. আমিরুজ্জামান এবং বিদায়ী জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ স্থানীয় নেতারা।
এ উপলক্ষে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে জেলা মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত সদস্যদের নামও অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়। নতুন নেতৃত্ব আগামী দুই বছর জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নবনির্বাচিত আমির মিনহাজুর রহমান খাগড়াছড়ি পৌরসভার অপর্ণা চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদের ছেলে। তিনি পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ও এমএড ডিগ্রিধারী মিনহাজুর রহমান এর আগে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রশিবিরের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। এ ছাড়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ামী খাগড়াছড়ি জেলার কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর খাগড়াছড়ির সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তার বক্তব্য, জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর। কোনো ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রধান বিবেচ্য করার কথা জানান তিনি।
পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ দূর করে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন জেলা আমির। তার মতে, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণে জাতিগত কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হওয়া উচিত নয়।
শপথ অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর আহ্বান জানান।