জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির কাছ থেকে চারটির বেশি আসন না পাওয়ার কারণেই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ ও দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।জামায়াতের লংমার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, কর্মসূচিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত সহযোগিতা চাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। এমনকি সহযোগিতা না চাইলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এরপরও জামায়াত পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ। তিনি দাবি করেন, রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল এবং লংমার্চের বহরে থাকা শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন।রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো লংমার্চটি মূলত জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও সামনে রাখা হয়েছে এনসিপির নেতাদের।তার ভাষ্য, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে এনসিপিকে সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝামাঝি অবস্থান থেকে রাজনৈতিকভাবে এগোতে চাইছে।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অনেকে মনে করছেন, এনসিপি এখন না হলেও ভবিষ্যতে জামায়াতের জোট ছেড়ে যেতে পারে। এ কারণে এনসিপিকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও জামায়াতের ভেতরে আক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।জামায়াতের জোটে থাকা অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বিএনপির কাছ থেকে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ার কারণেই এসব দল জামায়াতের দিকে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন ছাড়তে রাজি হলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই দলটি জামায়াতের সঙ্গে গেছে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত বলে দাবি করেন তিনি। জোটের অন্য দলগুলোও একটি করে আসন না পাওয়ার কারণে জামায়াতের দিকে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আরও নানা অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াত সম্পর্কে এনসিপির অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দলটির নেতাকর্মীদের সেসব বক্তব্য মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।তবে পোস্টে করা এসব রাজনৈতিক অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।