জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এই নোটিশ পাঠান বলে জানিয়েছে এনসিপির মিডিয়া সেল।

গত ২ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আইনি নোটিশে ওই অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে সম্পৃক্ত করার তথ্য সঠিক নয়। বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত নেয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির বিষয়েও আসিফ মাহমুদকে জড়ানো ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।নোটিশে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১১ মে। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতির ঘটনা ঘটে।

এ অবস্থায় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যথাযথ যাচাই ও প্রমাণ ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।