প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, দক্ষ শিক্ষক ও মানসম্মত পাঠদানও নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী দুই বছরে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষকস্বল্পতা দূর করা এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাও জরুরি। 
তিনি আরও জানান, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলীয় আলোচনা ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, পাঠ্যবিষয়ের পরিমাণ বাড়ানোর চেয়ে শিক্ষার্থীরা কতটা ভালোভাবে শিখছে, সেদিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
 কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে শেখার সময়ের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণ করা দরকার। 
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সীমা এই বক্তব্যে ঘোষণা করা হয়নি।