টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর দেশের পোশাকশিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের তীব্রতা কমেছে। মিরপুর, গাজীপুর, টঙ্গী, জয়দেবপুর, মৌচাক, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ায় উৎপাদন কার্যক্রমেও গতি ফিরছে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সাভার ও আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানা খোলা ছিল। জরুরি উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ চালু রাখা হয়। শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন। শিল্পাঞ্চল পুলিশ জানিয়েছে, খোলা কারখানাগুলোতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বৃহস্পতিবার থেকেই অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে আগের দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে জামগড়া, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জিরাবো ও কাঠগড়া এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ বেশি ছিল। জামগড়া এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। মিরপুর-১, ১০, ১১, ১২ ও পল্লবী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। একইভাবে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরেছেন। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৩ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে তিন, সাভার ও আশুলিয়ায় ১১, গাজীপুরে ১২ এবং নারায়ণগঞ্জে সাত প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের মূল দাবি এখনো পূরণ হয়নি। ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে অসন্তোষ রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও নতুন বেতনের পরিমাণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কালো তালিকাভুক্তির প্রথা বাতিল এবং আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। ফলে আপাতত শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরলেও শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।