দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে মোংলা বন্দরকে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ বন্দর ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শুক্রবার মোংলা বন্দর জেটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ দিনে দুবার মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন। এসব সফরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানা স্থাপন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করতেও সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। এ ছাড়া চায়না ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ভাঙ্গা থেকে মোংলা পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণ এবং রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
মন্ত্রীর মতে, মোংলাকে ঘিরে শিল্প ও অবকাঠামো খাতের বিকাশ ঘটলে বৃহত্তর খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে জাতীয় স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




