সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালত এ নির্দেশ দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি দুদকের আবেদন শুনে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অবরুদ্ধ করা হিসাবগুলোর মধ্যে সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের ১১টি, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার পাঁচটি, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি হিসাব রয়েছে। সায়লা ফারজানা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
দুদকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মনিরুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। তার স্ত্রীর হিসাবে রয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা। অন্যদিকে, রেজাউল আলম শাহীনের হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা জমা আছে।
দুদকের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধান দলের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া জঙ্গিবাদের অভিযোগ তুলে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন মাধ্যমে সম্পদ অর্জন এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক হিসাবের অর্থ সরিয়ে বিদেশে পাচার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আবেদনে দুদক বলেছে, অনুসন্ধান চলাকালে এসব অর্থ স্থানান্তর বা সম্পদ হস্তান্তর হলে রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সে কারণে অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ও দুদকের আবেদনে উল্লিখিত অভিযোগকে অপরাধ প্রমাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।