যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় কম খরচে কৃষিতে পুষ্টি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এই প্রযুক্তি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস উদ্ভাবনটির পেটেন্ট অনুমোদন দেয়। গবেষকের দাবি, প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকার ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহার করলে ব্যয় হতে পারে মাত্র ২৩০ টাকা।
 ড. জাভেদ হোসেন খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পেটেন্ট অনুমোদনের পর অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, দেশের কৃষি, মাটি ও কৃষকের কল্যাণকে সামনে রেখেই তাঁদের গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। 
তাঁর মতে, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে সারের অপচয় কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা কমাতেও প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এই অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 তাঁর মতে, উদ্ভাবনটি দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক কাজে উৎসাহিত করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান ২০১৩ সাল থেকে যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা হয়। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।
 তবে পেটেন্ট অনুমোদন পেলেই কোনো প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সমান কার্যকর বা বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ন্যানো ইউরিয়ার প্রকৃত কার্যকারিতা, প্রতি একক জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ, ফলনের ওপর প্রভাব এবং ২৩০ টাকার ব্যয়ের হিসাব স্বাধীন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফলের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।