নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আর দুই মাস। শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি চললেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অগ্রগতির চিত্রে রয়েছে বড় ব্যবধান। প্রাথমিকে ৭৪ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিপরীতে মাধ্যমিক স্তরে সরবরাহের হার ৪০ শতাংশ। সবচেয়ে পিছিয়ে নবম-দশম শ্রেণি—এ স্তরে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ বই।
এর মধ্যে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রস্তাবিত চারটি নতুন বইয়ের মুদ্রণ কার্যাদেশও এখনো দেওয়া হয়নি। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় বইগুলোর অনুমোদন মিললে ছাপার কাজ শুরু হতে পারে। ফলে বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি। বই মুদ্রণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপা হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রথম দফার দরপত্রে থাকা মাধ্যমিক স্তরের ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় অর্ধেক ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছাপা হয়েছে। আনুষঙ্গিক কাজ শেষে সরবরাহ হয়েছে ৪০ শতাংশ।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চতুর্থ শ্রেণির জন্য প্রস্তাবিত নতুন বই ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’। অনুমোদনের পর এসব বইয়ের কার্যাদেশ, মুদ্রণ, বাঁধাই, মান যাচাই ও সরবরাহের কাজ শেষ করতে হবে।
এবার ইতিহাসের পাঠ্যবইয়েও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় রয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছিল। এবার আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু হলেও মাধ্যমিকের ধীরগতি ও চারটি নতুন বইয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া সময়মতো বই বিতরণের লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বই পৌঁছানো নির্ভর করবে ছাপার গতি, অনুমোদন এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।




