ফুল, উপহার, ক্রেস্ট আর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন দিনাজপুর শহরের ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান। দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব পালনের পর বৃহস্পতিবার তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। কর্মদিবস শেষে একই গাড়িতে প্রিয় শিক্ষককে বাসায় পৌঁছে দেন তারা।
২০০৬ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগ দিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা তার সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায় বিদায় অনুষ্ঠানে। বাসা থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সাজানো ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে তার বাসায় হাজির হন। সেই গাড়িতে চড়ে কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার দিয়ে তাকে সম্মান জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদায় অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। একে একে তার কাছে এসে দোয়া নেন তারা। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কেউ চাকরিতে, কেউ কলেজে পড়াশোনা করলেও প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের দিনে উপস্থিত থাকতে ভুল করেননি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ এস এম হাবিবুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাফীসহ অন্যরা।
শিক্ষকতা জীবনে ফজলুর রহমানের উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা এবং বিদ্যালয়ে মেয়েদের ফুটবল দল গঠন। বাল্যবিবাহ বন্ধে ভূমিকা রাখায় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা ও সম্মাননা পেয়েছেন। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা মেয়েদের ফুটবল দল থেকে বহু খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে এবং দলটি শতাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০১৪ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে দেশজুড়ে ‘প্রিয় শিক্ষক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন ফজলুর রহমান। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা শেষে শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তার বিদায় দিনাজপুরে এক আবেগঘন স্মৃতি হয়ে থাকল।