চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। একটি খাতায় শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং অন্য ক্ষেত্রে ১৩ নম্বরকে ৮৩ করে দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ঘটনাগুলো তদন্ত করতে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। 
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১২ লাখ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনরায় দেখার আবেদন এসেছিল। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও ধরা পড়েছে। মন্ত্রী জানান, পুনর্নিরীক্ষণে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া আগে অকৃতকার্য হওয়া পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসব পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও তোলেন শিক্ষামন্ত্রী।
 তার বক্তব্য, কোনো কোনো পরীক্ষক নিজেরা উত্তরপত্র যাচাই না করে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরীক্ষক পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণসহ মূল্যায়নব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন। একটি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ঘটনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর এক বন্ধু তার অজান্তে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিল। 
বন্ধুটি মনে করেছিল, শিক্ষার্থীটি জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়, আবেদন করার জন্য ভেরিফিকেশন কোড প্রয়োজন না হওয়ায় অন্যের পরিচয়ে আবেদনটি করা সম্ভব হয়েছিল। পরে খাতা পুনরায় যাচাই করে ওই শিক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে এবং সে অকৃতকার্য হয় বলে জানান মন্ত্রী। 
এ ঘটনায় কে বা কারা দায়ী, তা বের করতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মূল্যায়নের এমন অসংগতি কীভাবে ঘটল, তা শনাক্ত করা জরুরি। বুধবার এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।