মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডে বসতে যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবারের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। প্রায় তিন বছর পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটনের বাইরে এ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবারের সভায় অংশ নিচ্ছেন না। দেশের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁর পরিবর্তে দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতি অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের হতাশ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চলার মধ্যেই এ বৈঠক হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রয়টার্সকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময়ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশঙ্কার তুলনায় ভালো অবস্থানে ছিল। তবে এখন পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
ডিজেলের উচ্চমূল্য, সারের দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর প্রভাব একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। এর আওতায় বিশ্ববাজারে আরও বেশি ডিজেল সরবরাহ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার আয়ের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয় রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শিল্প খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত কমে আসছে।
ফলে বাজারের অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি তেলের দামের ওপরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হচ্ছে। অজয় বাঙ্গা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক আপাতত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সংশোধন করছে না। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, কেবল এল নিনোর প্রভাব নয়; সারের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও ঋণের খরচসহ একাধিক বিষয় একসঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসগুলোতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলোকে আরও সতর্কভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং অর্থায়নের ব্যয় একসঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। তাই এবারের বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।




