বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে বড় দরপতন, সরকারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি এবং সাইবার হামলাকে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের অক্টোবর ২০২৬-এর বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করপোরেট খাতের ভালো আয় ও এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ বিশ্ববাজারকে সহায়তা করছে। তবে আপাত স্থিতিশীলতার আড়ালে কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। নতুন কোনো ধাক্কা এলে আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও নীতিগত অনিশ্চয়তার নেতিবাচক প্রভাব এআই খাতে বিনিয়োগের কারণে কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। তবে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। প্রত্যাশা পূরণ না হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিক শেষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার বা ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলারে। আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় এই ঋণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। বাণিজ্যিক ঋণের অংশ তুলনামূলক কম থাকায় তা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে বৈশ্বিক অর্থায়নের উৎস সংকুচিত হলে বা ঋণের ব্যয় বেড়ে গেলে বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না।
আইএমএফের প্রতিবেদনে সরকারি ঋণের চাপ ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিও তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ালে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে। নতুন বিনিয়োগ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রবৃদ্ধিতে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের ব্যয় নির্ভর করে সাধারণ সুদহার ও ঋণগ্রহীতা দেশের ঝুঁকির ওপর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে ছিল। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে ঋণ দিতে বিনিয়োগকারীরা এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুদ দাবি করলে মোট সুদহার দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল সুদহার বেশি থাকলে ঝুঁকির অতিরিক্ত সুদ কম হলেও ঋণের সামগ্রিক ব্যয় উঁচু থাকতে পারে।