কমিশন বাড়ানো, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম খান। ব্যবসায়ীদের অন্যতম দাবি হলো, প্রতি সিলিন্ডারে তাঁদের কমিশন বর্তমান ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা।
তাঁদের বক্তব্য, গত পাঁচ বছরে জ্বালানি, পরিবহন, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া ও লাইসেন্সসহ ব্যবসা পরিচালনার নানা খরচ বেড়েছে। সমিতির হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার আনা, ওঠানো-নামানো, খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছানো এবং কর্মচারী ও গুদামের খরচ মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিশনে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। এ ছাড়া কিছু কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের বাইরে মাসে একাধিকবার নিজেদের মতো মূল্য পরিবর্তন করে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা বিইআরসির ঘোষণার মাধ্যমে করতে হবে এবং কোম্পানির চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ করতে হবে। সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা।
সেলিম খানের দাবি, ঋণপত্র বা এলসি খুলতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকটি কোম্পানি নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে সারা দেশে অনেক খালি সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে পুনরায় বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়া, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধু গাড়ির রেলিংয়ের কারণে মামলা না দেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।
তবে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভোক্তাদের এলপিজি সংগ্রহে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকদের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।




