নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে চললেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত জটিলতা এ বিলম্বের অন্যতম কারণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হয়। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হয়।
হিসাবের এই পার্থক্যের কারণে সব খাতে একসঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতিতে বাড়তি সময় লাগছে। অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এই সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মাদরাসা খাতের জটিলতার কারণে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন আগে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের বক্তব্য হলো, একই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী একসঙ্গেই বেতন-ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন।
এমপিওভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা অনেকটাই সরকারি বেতন কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। নতুন স্কেল কার্যকরে বিলম্ব হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়তে পারে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও বেতন প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।




