মাদ্রাসা শিক্ষক ফখরুল আলম রতন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রংপুরের কাউনিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে কাউনিয়া থানা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহতের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রতনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, সন্তানদের সামনে থেকে তাঁর স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি। একই দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের মা। ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন নিহতের বড় ভাই ফিরোজ কবির মিলন, চারজিগারপাড় জামে মসজিদের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক হাসেম মন্ডলসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে ফখরুল আলমকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামি মজনু মিয়াসহ অন্যরা বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শাকতলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে মজনুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল জানান, গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন লুৎফর রহমান ও রিজু মিয়া। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি খলিলুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে তিনি বর্তমানে রংপুর কারাগারে রয়েছেন।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।




