আর মাত্র এক দিন পরই মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে খুলনা জেলা ও মহানগরের পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং ও সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৮৯০টি এবং মহানগরে ৭৬টিসহ মোট ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন মণ্ডপে নেওয়া হয়েছে বৈচিত্র্যময় থিম, দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা ও আলোকসজ্জার উদ্যোগ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডুমুরিয়ায় ২২৬টি, পাইকগাছায় ১৫১টি, দাকোপে ৮১টি, বটিয়াঘাটায় ১০৮টি, তেরখাদায় ৯৭টি, কয়রায় ৫৭টি, দিঘলিয়ায় ৬১টি, রূপসায় ৭৬টি এবং ফুলতলায় ৩৩টি মণ্ডপে পূজা হবে। মহানগরের পাঁচ থানার মধ্যে সদর থানায় ২৬টি, সোনাডাঙ্গায় ১১টি, খালিশপুরে ১১টি, দৌলতপুরে ২০টি এবং খানজাহান আলী থানায় আটটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা মহানগরের বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতে প্যান্ডেল ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম ও থিমভিত্তিক সাজসজ্জা থাকবে। ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নের খর্নসং কালীর বটতলা সার্বজনীন মন্দিরে ২০১টি এবং খর্নসং মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজামন্দিরে ১৫১টি প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহানগর পূজা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জী বলেন, খুলনার পুরোনো মণ্ডপগুলোতে ঐতিহ্য ও নান্দনিক সাজসজ্জার সমন্বয়ে পূজার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা বলেন, শারদীয় উৎসব এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এবার পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের টহল দল থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, এবার প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হবে। গত বছর এ বরাদ্দ ছিল ৫০০ কেজি। খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদার শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও টহল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।