সুন্দরবনের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ১০ বছর ধরে ‘বাদাবন ইকো-কটেজ’ নামে একটি রিসোর্ট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী গ্রামে সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) গড়ে ওঠা রিসোর্টটি পরিবেশ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠ, বাঁশ ও গোলপাতা দিয়ে তৈরি তিনটি কক্ষে একসঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ জনের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কটেজের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকা এবং দাহ্য উপকরণে তৈরি স্থাপনাগুলোয় আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের স্থাপনা পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার রিসোর্টটি বন্ধের নোটিশ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া গেলে অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিত বাদাবন ইকো-কটেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক মো. আজিজুর রহমান জানান, বৈদ্যমারী গ্রামের রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র নেই।
তবে রিসোর্টের মালিক মো. লিটন জমাদ্দার দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স এবং জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চলতি বছর তিন বছরের রাজস্ব জমা দিয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নবায়ন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলেও জানান। তবে সুন্দরবনের এত কাছে দাহ্য উপকরণে তৈরি স্থাপনাটি পর্যটকদের জন্য কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ক্যাপশন:




