চাঁদপুরের চরাঞ্চল সমৃদ্ধ সাড়ে ৩ লাখ জনবসতির মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি স্থানীয় উপজেলা বাসীর কোন কাজেই আসছে না। গাইনী চিকিৎসক, সার্জারী ও এনেস্থিসিয়ার অভাবে ১৮ বছরের এই হাসপাতালে ১৫ বছরই সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে । এই হাসপাতালে ২১ চিকিৎসকের স্থলে কাগজ-কলমে শূন্য পদ ৫টি দেখানো হলেও বাস্তবে ৭টি পদেই নেই কোন চিকিৎসক।
৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা সরকারী হাসপাতালটি স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে ৫০ শয্যার সকল অবকাঠামো সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ্যদিন অতিবাহিত হলেও এখনো ৫০ শয্যার কার্যক্রমের অনুমোদন এখনো আসেনি।
চরাঞ্চল সমৃদ্ধ গ্রামীন এই উপজেলার অসংখ্য অসচেতন প্রসূতি মায়েরা যেখানে বাচ্চা প্রসবের বিষয়ে দাই (ধাত্রী) এর উপর নির্ভরশীল সেখানে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ বছরের এই সরকারি হাসপাতালে ১৫ বছরই গাইনি চিকিৎসা বা সিজারিয়ান কোন অপারেশন না হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে দৈনিক ইত্তেফাক কে জানান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী।
১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার নিয়ে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ২০০৮ সালে উপজেলার মরাদোন এলাকায় নির্মিত হয় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এই মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন গাইনি চিকিৎসক কাগজ-কলমে থাকলেও ৩ বছরেরও অধিক সময় তিনি ডেপুটেশনে চলে গেছেন অন্যত্র।
জনবল সংকট ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন এবং এক্সট্রী মেশিনটি ও দীর্ঘদিন নষ্ট থাকার কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ ও চরাঞ্চল সমৃদ্ধ এই উপজেলার সাধারণ মানুষরা।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহ এই উপজেলায় ৩৫ চিকিৎসক পদ থাকলেও সরকারী এই ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ২১ টি। এর মধ্যে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসকবিহীন পদগুলো হলোঃ জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনিসথেসিয়া, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, সরকারি সার্জন ।
তবে এই হাসপাতালে কখনো গাইনি চিকিৎসক থাকলেও থাকেন না এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক ও কখনো থাকেন না সার্জন। এই তিনজনকে কখনোই একসাথে এই হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেইটের কাছের এক ফার্মেসির স্টাফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মানুষ না জানার কারণে অনেক সময় প্রসূতি মায়ের (সিজার/নরমাল) ডেলিভারির জন্য এই হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু এখানে কোন ব্যবস্থা না থাকায় সেই প্রসূতি মা দের কে নিয়ে আবার অন্যত্র ছুটে যেতে হয়। এমনিতেই স্থানীয় রাস্তা-ঘাট ভাঙাচোরা, তার ওপর প্রসূতি মা'দের নিয়ে ছুটোছুটির বিরম্বনা এসবের কারনে রোগীর সাথে আসা লোকজন মারাত্মক বিরক্তি প্রকাশ ও কখনো কখনো গালমন্দ করতে করতে ফিরে যেতে দেখা যায় ।
উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিভাবক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমার বইনের (বোন) বাচ্চা হইবো। যন্ত্রণায় বইনে ছটফট শুরু করলে আমরা অনেক কষ্ট কইরা তারে উপজেলার সরকারী এই বড় হাসপাতারে আনলে এই জায়গার স্যারেরা কয় আমার বইনের কোন ব্যবস্থা এনো নাই । আমগো নাকি অন্য হাসপাতালে যাওন লাগবো। পরে ছেংগারচর বাজারের একটা হাসপাতালে (প্রাইভেট) নিয়ে অপারেশন করাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার না হওয়ার বিষয়ে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাশ বলেন, এখানকার গাইনি চিকিৎসক ডেপুটেশনে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে আমরা শূন্য পদটাও লিখতে পারছি না। গাইনী চিকিৎসক না থাকার কারণে এই উপজেলার প্রসূতি মায়েরা এই হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছে।




