ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। নাসিরনগর ও নবীনগরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জেলা প্রশাসকের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে।
নাসিরনগরে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের ছেলে আদনান সাদী এবং তাঁর দুই আত্মীয়ের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গোকর্ণ ইউনিয়নে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’, সদর ইউনিয়নে এমপির বোনজামাই আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’ এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে তাঁর ভাগ্নের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’-এর নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র তাঁদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নাসিরনগরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এমপির ছেলে ও তাঁর দুই আত্মীয় ডিলারশিপ পেয়েছেন—এ তথ্য সঠিক। একই সঙ্গে অন্য ডিলারদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
জেলার অন্য উপজেলাতেও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরাইলের নোয়াগাঁওয়ে বিল্লাল মিয়া নামে জুলাই-সংক্রান্ত মামলার এক আসামির ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অন্য দলের লোকদের ডিলার নিয়োগের অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুনুর রশীদও অভিযোগ করেছেন, সেখানে কৃষকদলের কাউকে ডিলার করা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, তিনি কোনো আত্মীয়কে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন—এমন প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভার ১০৬টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮২৫ জন। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন করে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেপ্টেম্বরে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উপজেলা পর্যায়ে আবেদন যাচাই করা হয়। তবে সুপারিশের তালিকায় প্রথম স্থানে নাম তুলতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান জানান, উপজেলা থেকে আসা নামের তালিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। দু-একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই জানিয়ে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরির সময় হস্তক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে। তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। সার ডিলার নিয়োগে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।




