কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারানো সেনাসদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখের শেষ ঠিকানা হচ্ছে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান। শুক্রবার সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
২৭ বছর বয়সী তিতাস নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রায় চার বছর আগে বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান নেই।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল সামদানী জানিয়েছেন, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে মানবপাচারবিরোধী অভিযানে অংশ নেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা। সেখানে শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে আটকে রাখার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গুলিতে আহত হন সৈনিক তিতাস শেখ।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ অভিযানে বন্দিদশা থেকে ৫৭ জনকে মুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচজনকে আটক করার সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবারও পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, মানবপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। এদিকে কর্তব্য পালনকালে তিতাসের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে আইএসপিআর।



