চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার চুরি হচ্ছে রানওয়ের আলোকব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কখনো মাটি খুঁড়ে ভূগর্ভস্থ কেব্ল তুলে নেওয়া হচ্ছে, কখনো কেটে নেওয়া হচ্ছে বাতির বৈদ্যুতিক সংযোগ। গত দেড় মাসে একাধিক ঘটনায় ২৫টি ট্রান্সফরমারসহ বিপুল পরিমাণ কেব্ল ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চুরির মালামালসহ চক্রের এক সদস্যকে আটক করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা। এর আগে আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রানওয়ের কাছাকাছি এলাকা, অ্যাপ্রোচ লাইট ও নিরাপত্তাবাতির বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটে।
বিমানবন্দরের রানওয়ের আলো উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাতে, বৃষ্টি কিংবা কুয়াশার মধ্যে পর্যাপ্ত আলোকব্যবস্থা সচল থাকা প্রয়োজন। কোনো অংশের আলো বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফ্লাইট পরিচালনায় জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেসের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান জানান, রানওয়ে এলাকায় নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেনের বক্তব্য, রানওয়ের ভেতরে চুরির ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, রানওয়ের পাশে বোট ক্লাবের কাছে দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টিতে ওই এলাকার ঘাস বড় হয়ে যাওয়ায় চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। পরে ঘাস পরিষ্কার করে সেখানে দুটি আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট রানওয়ের ০৫ প্রান্ত থেকে একটি ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন কেব্ল ও সরঞ্জাম চুরি হয়। ২ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তাবাতির প্রায় আধা কিলোমিটার কেব্ল কেটে নেওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়ে। এরপর ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর, ১৩ ও ২৮ সেপ্টেম্বর এবং ৬ ও ১০ অক্টোবর বিভিন্ন ঘটনায় রানওয়ের ২৩ নম্বর প্রান্ত ও আশপাশের এলাকা থেকে একাধিক ট্রান্সফরমার ও কেব্ল খোয়া যায়। সব মিলিয়ে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রানওয়ের কাছাকাছি এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রায় চার ফুট গভীর থেকে ভূগর্ভস্থ কেব্ল তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিমানবন্দরের বাইরের অংশে থাকা ওভারহেড কেব্লও চুরি হচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ১৫০ জন, আনসারের ২০০ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ১০৫ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৮০ জন সদস্য। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত সদস্য ৬৩৫ জন। এত জনবল থাকার পরও কীভাবে বারবার চুরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল জানান, শাহ আমানত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আরও ৬০ জন আনসার সদস্য দেওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার তিনি বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান।
এদিকে নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে বিমানবন্দরে তিন দিনব্যাপী ‘বিমানবন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’ পালন করা হচ্ছে। এমন কর্মসূচির মধ্যেও ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নজরদারি, টহল এবং নিরাপত্তা ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।