ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রের স্মরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘ইলা মিত্র মেলা’। ১১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় নাচোল ডাকবাংলা মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। ইলা মিত্রের মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ অক্টোবর ও জন্মবার্ষিকী ১৮ অক্টোবর সামনে রেখে ‘ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটি’ এ আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন। পরে মেলা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও মেলা কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। বাণীতে ইলা মিত্রকে উপমহাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব ইসরাইল সেন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ইলা মিত্র আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বর্তমানেও সার, কীটনাশক, সেচের পানি ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির সভাপতি ও সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, নাচোলের তেভাগা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ইলা মিত্র আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। জনগণের সংগ্রামকে নিজের সংগ্রাম হিসেবে গ্রহণ করার শিক্ষা তার জীবন থেকে পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, বিপ্লবী গণফ্রন্ট রাজশাহীর সভাপতি লিটু বিশ্বাস, ‘নাচোলের রানি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড, বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর ও শিক্ষক মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।
আয়োজকেরা জানান, মেলার দ্বিতীয় দিন সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেবেন ইলা মিত্রের ছেলে মোহন মিত্র, সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর এবং প্রয়াত বাম নেতা চারু মজুমদারের ছেলে অভিজিৎ মজুমদার।
১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেন। কৃষকদের ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নাচোলে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ আন্দোলনের কারণে তাকে পুলিশি নির্যাতন ও কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয়। ২০০২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।