সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে মা-বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ভালো স্কুল, উন্নত শিক্ষা, আধুনিক পোশাক ও প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তাঁরা চেষ্টা করেন। কিন্তু সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার মনের খবর নেওয়া কিংবা তার আচরণে পরিবর্তন আসছে কি না, তা বোঝার জন্য সময় বের করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ সন্তানের বেড়ে ওঠায় বস্তুগত সুবিধার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারিবারিক সান্নিধ্য, যত্ন ও নৈতিক শিক্ষা।
মোবাইল ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে শিশু-কিশোরদের শেখার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নানা ধরনের ঝুঁকিও। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান অর্জন করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বয়সের অনুপযোগী বিষয়বস্তুর সংস্পর্শ তাদের মনোযোগ, আচরণ ও মূল্যবোধে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে শুধু সন্তানের হাতে মোবাইল তুলে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। তাকে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার শেখাতে হবে, সময়ের সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং অনলাইন জগতে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়, বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করেই এ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য প্রয়োজন
সন্তান ভুল করতেই পারে। সেই ভুলের প্রতিক্রিয়ায় তাকে অপমান করা কিংবা অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রতিটি ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়াও তার জন্য মঙ্গলজনক নয়। মা-বাবার দায়িত্ব হলো ভুলের কারণ বুঝে সন্তানকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সঠিক-ভুলের পার্থক্য শেখানো।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিজেদের মধ্যেও বোঝাপড়া থাকা দরকার। একজন সন্তানকে কোনো বিষয়ে সতর্ক করলে অন্যজনের উচিত বিষয়টি বুঝে সহযোগিতা করা। মতপার্থক্য থাকলে তা সন্তানের সামনে বিরোধে পরিণত না করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা ভালো। এতে সন্তান বুঝতে শেখে যে ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারে নিয়ম, দায়িত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও গুরুত্ব রয়েছে।
ভালো মানুষ গড়ার দায়িত্ব পরিবারের
সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটানো, তার কথা শোনা, পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, বন্ধু ও আগ্রহ সম্পর্কে জানা এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া—এসবের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন আন্তরিকতা ও নিয়মিত উপস্থিতি। মা-বাবার আচরণও সন্তানের কাছে বড় শিক্ষা। বড়দের পারস্পরিক সম্মান, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা দেখে শিশুরা অনেক কিছু শেখে।
সন্তানের ভবিষ্যৎ শুধু ভালো ফলাফল বা প্রতিষ্ঠিত পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সে কেমন মানুষ হয়ে উঠছে, অন্যের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে এবং নিজের দায়িত্ব কতটা বুঝতে শিখছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি মা-বাবার উচিত সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি সময় দেওয়া, তার পাশে থাকা এবং আদর্শ জীবন গঠনে সহায়তা করা। পরিবারের সচেতনতা ও যত্নেই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ, মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম।




