যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর এবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করতে সচিবালয়ে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রয়োজনে নিজের দপ্তরেই বিশ্রাম নেবেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করবেন প্রতিমন্ত্রী। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সরাসরি তদারক করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগেরবারের স্থানের পরিবর্তে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ কাজ করা হচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
ঘটনার তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটিকে রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বৃহস্পতিবার রাতে বাহিনীটির তৃতীয় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করার কথা রয়েছে।