সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্র। ঘটনার বিস্তারিত জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।
এরপর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। সৌদি আইনের অধীনে ‘তাআজির’—অর্থাৎ বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির বিধান—অনুযায়ী আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন বলে জানানো হয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ রায় দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর তা চূড়ান্ত হয় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন প্রয়োগে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশকে আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট মামলার পূর্ণ বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।




