জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত আলোচনা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা ২৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়েছে। তাদের কয়েকজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এবং কিছু দল লিখিত মতামতও দিয়েছে।

যেসব দল সনদে স্বাক্ষর করেনি বা বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেনি, তারাও লিখিতভাবে মতামত জানাতে পারবে বলে জানান তিনি। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবও কমিটি বিবেচনা করবে।কাজ দ্রুত শেষ করতে সংসদ সচিবালয় ও বিশেষ কমিটি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে সভা করার পরিকল্পনা করেছে।

জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে উচ্চকক্ষের সদস্য কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে সংসদীয় আসনের অনুপাত কিংবা মোট ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব—দুটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ থাকলেও সংবিধান সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা নিম্নকক্ষের হাতে থাকবে।

এদিকে অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ অর্থবছর করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এ জন্য সংবিধান ও বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করাও সংস্কারের অংশ।