জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্ণ হতে চললেও রাষ্ট্রসংস্কার ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, ক্ষমতার রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় স্বার্থের সংঘাত সংস্কারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রসংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগাতে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও দৃঢ়তার ঘাটতি ছিল। আগামী ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংস্থাটি এ মূল্যায়ন তুলে ধরে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী দল তাদের ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংস্কারপ্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আইনে পরিণত করলেও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ায়, এমন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ এবং পুলিশ সংস্কার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির দাবি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল, দুদক সংস্কারে প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আনা এবং মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইন সংস্কারের লক্ষ্যকে দুর্বল করেছে। স্বাধীন পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কার্যকর অগ্রগতি নেই বলে মনে করে সংস্থাটি।
টিআইবি আরও বলেছে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সম্পদবিবরণী প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নেই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির একাংশের মধ্যে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের প্রবণতা ফিরে আসার অভিযোগও তুলেছেন ইফতেখারুজ্জামান।
সংস্থাটির মতে, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষের দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রসংস্কারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে।