বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্যকে শুধু নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেছেন, পণ্যের মান, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকৃত উৎপাদকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জিআই পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শিল্প সচিব বলেন, জামদানি, নকশিকাঁথা ও ফজলি আমের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব পণ্যের পরিচয় ও স্বত্ব আইনগতভাবে সুরক্ষিত করা জরুরি। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় নথিভুক্তকরণ ও জিআই নিবন্ধন না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যগুলোর স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেটিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিতে হবে। এ জন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পণ্যের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সুফল যেন উৎপাদক, কারুশিল্পী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন আব্দুন নাসের খান। প্রথমত, যেসব ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জিআই সুরক্ষা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করা। দ্বিতীয়ত, নিবন্ধিত পণ্যগুলোর বাণিজ্যিকীকরণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারাওয়াত সিরাজ শুল্কা। অনুষ্ঠানে পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




