বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও বর্তমানে অনেকের কম বয়সেই চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘প্রিম্যাচিউর গ্রেইং’। চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখার জন্য দায়ী মেলানিন উৎপাদন কমে গেলে এমনটি হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অকালেই চুল পেকে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অটোইমিউন রোগ, ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি এবং ধূমপানের অভ্যাস।
মানসিক চাপের প্রভাব
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় স্ট্রেসের সঙ্গে চুলের রঞ্জক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অনিদ্রা ও উদ্বেগও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অটোইমিউন রোগ
অটোইমিউন রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে। কিছু ক্ষেত্রে চুলের রং তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোষ আক্রান্ত হলে চুলের স্বাভাবিক রং হারানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি
ভিটামিন বি-১২ রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। তাই প্রয়োজন মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
ধূমপানের অভ্যাস
ধূমপানের সঙ্গে অকালপক্ব চুলের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। তামাকের ক্ষতিকর উপাদান চুলের গোড়ার কোষ ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে চুল পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অকালেই চুল পাকা শুরু হলে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ চুল পাকার সব কারণ প্রতিরোধযোগ্য নয় এবং সাদা হয়ে যাওয়া চুলের রং সব ক্ষেত্রে আবার স্বাভাবিক হয় না।