বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি সামনে আসছে একাধিক সম্ভাব্য কারণ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কারও পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাহসিফের সঙ্গে দীপের বান্ধবী দিশার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে দীপ প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে তৃতীয় কোনো পক্ষ নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহার করেছিল কি না।
এমন একটি ধারণাও আলোচনায় এসেছে, দীপ ও দিশা হয়তো কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হওয়ার বিষয়টি জানতেন না। তবে এ ধরনের ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনার সঙ্গে অজ্ঞাত প্রভাবশালী মহল কিংবা গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কারও সম্পৃক্ততার বিষয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কিন্তু এসব বক্তব্যের সমর্থনে কোনো প্রমাণ, নথি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে তাহসিফের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অতীত বিরোধের ইতিহাস। এসব বিষয়ে তথ্য জানতে রোববার নৌ পুলিশ দিশাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে নতুন কোনো সূত্র দিতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে দিশার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে তাহসিফের বাদ পড়া এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় তাকে বিমানে তুলে দেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে এলেও মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তদন্তের স্বার্থে এখন তাহসিফের সঙ্গে দীপের বিরোধের প্রকৃতি, দিশার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিস্তারিত এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরে অন্য কারও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধানের বিষয়।
সব মিলিয়ে তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য এখনো অমীমাংসিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধই কি এই পরিণতির কারণ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা ঘটনা—তা নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।




