মুক্তির দুই দিনেই বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক পেরিয়েছে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো ব্যবসা করলেও ভারতে দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটির আয় প্রথম দিনের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। এর পাশাপাশি হিন্দি সংস্করণের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির দ্বিতীয় দিনে ভারতে সিনেমাটির নিট আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ রুপি। প্রথম দিনে আয় ছিল ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি। দুই দিনে ভারতে মোট নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি ৩০ লাখ রুপি। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় পৌঁছেছে ২০৯ কোটি ১০ লাখ রুপিতে, যার মধ্যে বিদেশের বাজার থেকে এসেছে প্রায় ৯৭ কোটি রুপি।
নেলসন দিলীপকুমারের পরিচালনায় নির্মিত তামিল অ্যাকশন সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ১২৭ কোটি রুপি আয় করেছিল। দ্বিতীয় দিনে ভারতের বাজারে তামিল সংস্করণ থেকে নিট ২৫ কোটি ২৫ লাখ, তেলুগু সংস্করণ থেকে ৭ কোটি ২৫ লাখ এবং হিন্দি সংস্করণ থেকে ২ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে ভারতে সিনেমাটির প্রদর্শনী হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৭টি। প্রথম দিনে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৯৯। অর্থাৎ প্রদর্শনীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ২০ দশমিক ৭ শতাংশ। শুক্রবার তামিল সংস্করণের সামগ্রিক দর্শক উপস্থিতি ছিল ৬৩ শতাংশ। রাতের প্রদর্শনীতে তা বেড়ে ৮৫ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছায়।
বিদেশের বাজারেও ভালো সূচনা করেছে সিনেমাটি। প্রথম দিনে সেখানে ৫৫ কোটি রুপি আয় করে তামিল সিনেমার সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের তালিকায় প্রথম তিনে জায়গা করে নেয় ‘জেলার ২’। বিদেশের বাজারে প্রথম দিনের আয়ে এটি বিজয়ের ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ এবং রজনীকান্তের ২০২৩ সালের ‘জেলার’-কে ছাড়িয়ে গেছে। তবে ‘কুলি’ ও ‘লিও’-র তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
আগের সিনেমার তুলনায়ও এগিয়ে আছে সিক্যুয়েলটি। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’ দ্বিতীয় দিনে ভারতে নিট ২৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি এবং বিশ্বজুড়ে মোট ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ রুপি আয় করেছিল। নতুন ছবিতে আবারও টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে ফিরেছেন রজনীকান্ত। ঋত্বিক রোশনের অতিথি উপস্থিতি নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
তবে বক্স অফিসের সাফল্যের মধ্যেও হিন্দি সংস্করণের প্রদর্শন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চার সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সিনেমাটি অনলাইন সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এ কারণে একাধিক মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ হিন্দি সংস্করণ প্রদর্শনে রাজি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর অনলাইন সম্প্রচারের আগে আট সপ্তাহের ব্যবধান রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন প্রদর্শকেরা। এ ব্যবধান নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের মতবিরোধের প্রভাব পড়েছে হিন্দি সংস্করণের পরিবেশনায়। ফলে বিশ্বজুড়ে বড় আয় করলেও হিন্দিভাষী দর্শকদের কাছে ছবিটি কতটা বিস্তৃতভাবে পৌঁছাতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।