বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি গাড়ি সংযোজনের নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে জাপানের বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে যুক্ত হতে পারে নতুন প্রযুক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগ।
কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি গ্রাহকসেবার অবকাঠামো তৈরিতেও মনোযোগ দিয়েছে টয়োটা। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি আধুনিক থ্রি-এস সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরেই এসব কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলোতে গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি মেরামত, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে দেশে টয়োটার নিজস্ব কার্যক্রমের পরিসর তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারের নীতিগত সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
সম্ভাব্য এ উদ্যোগকে দেশের গাড়ির বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দেশে গাড়ি সংযোজন শুরু হলে আমদানিনির্ভর ব্যয়ের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়বে।
ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টয়োটা গাড়ির ব্যবহারকারী মো. আবু ইউসুফের মতে, স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন করা গেলে ক্রেতাদের ওপর আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যয়ের প্রভাব কমতে পারে। একই সঙ্গে অনুমোদিত যন্ত্রাংশ ও দক্ষ কারিগরি সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মনে করেন, টয়োটার বিনিয়োগ দেশের শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। স্থানীয় উদ্যোক্তা, যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরির পথ প্রশস্ত হবে।
তার মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সংযোজিত গাড়ি বিদেশের বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশের অটোমোবাইল শিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর ও শুল্ক সুবিধা, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির সহযোগী শিল্প গড়ে তোলা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, টয়োটার সম্ভাব্য উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ শুধু গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় এবং শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।