বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওয়ার্টসিলা। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে এখন জ্বালানির নিরাপত্তা, আর্থিক সক্ষমতা এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফোরাম’-এ এসব বিষয় তুলে ধরেন ওয়ার্টসিলার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ভরযোগ্য রাখতে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ওয়ার্টসিলার মতে, গত প্রায় তিন দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে এবং জ্বালানির উৎসেও বৈচিত্র্য এসেছে। এখন এই সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ও গ্রিড-সহায়ক প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্টসিলা এনার্জির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এনার্জি বিজনেস ডিরেক্টর গোরান রিচার্ডসন বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে ২৮ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্যাট্রিক ফারকাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বহুমুখী জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।
ওয়ার্টসিলা এনার্জি সার্ভিসেসের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার উলরিক ফ্রিস বিদ্যমান তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এলএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের উপযোগী করার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হাইড্রোজেনসহ টেকসই জ্বালানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জাহেদ হোসেন বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সরবরাহ করা ইঞ্জিনভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে গড়ে ওঠা দক্ষ জনবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেবাকাজে যুক্ত রয়েছেন।