নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি দিদারুল আলম ওরফে বিদ্যুতের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নতুন পাঠ্যবই দেওয়ার কথা বলে ছাত্রীকে ফাঁকা কক্ষে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি পাঠ্যবই হারিয়ে ফেলায় নতুন বই নিতে ওই দিন সকালে বিদ্যালয়ে যায় ছাত্রীটি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন তার বই হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকার সুযোগে দপ্তরি বিদ্যুৎ বই দেওয়ার কথা বলে তাকে নির্জন একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি করে নিজেকে ছাড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায় শিশুটি।
ঘটনার পর অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম (দিলু মাস্টার) মৌখিকভাবে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে লিখিত আদেশ দেওয়া হয়নি। সভাপতি বলেন, শুক্রবার স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পেমই তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক সাংবাদিকদের বলেন, “এটি কোনো ব্যাপার না।” তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। এ ছাড়া মজলিশপুর গ্রামের আবু চান মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর প্রভাবশালীদের ভয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত দপ্তরিও পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিক মিয়া বলেন, একটি পক্ষ গুরুতর অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে না দিয়ে কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি সুষ্ঠু ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।