নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের নেতারা এ আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে দাবি পূরণ না হলে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি তেলুঞ্জিয়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানের কাছে আলিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই সশস্ত্র যুবক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়ার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, আলিফের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকসহ সংগঠনের নেতারা। খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া না হলে এসপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোরও ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি ২০২৫ সালে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে একই ধরনের তৎপরতা দেখানোর আহ্বান জানান। আলিফ হত্যার বিচার যেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে, সেই দাবিও জানান সাংবাদিক নেতারা।
আলিফ আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখা ও ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণেই আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন। নেতারা আলিফের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তারও দাবি জানান।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের পালানো ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দ্রুত তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।