দারিদ্র্য ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের শিশুরা। তাদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নতুন ব্যাগ, খাতা ও কলম পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জেলার চার শতাধিক চরের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি জানান, জেলার ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৯টি নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে অবস্থিত। নদীভাঙনে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে তিনি চরাঞ্চলে দ্রুত ভাসমান স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকটের কারণে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েই অনেক মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার হয় এবং ছেলেরা উপার্জনে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। এ সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি চরাঞ্চলের সমস্যা সমাধানে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আখের, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ, ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।